প্রকৃতির স্বর্গের আরেক নাম সুন্দরবন

প্রতিবছরের মতো এবারও ঘুরতে যাব বন্ধুদের সাথে, সেই পরিকল্পনা মতে আমরা সবাই একমত হই।
ইচ্ছে ছিল এমন এক জায়গায় যাওয়ার যেখানে নদী আর গহীন অরণ্যের মাঝে হারিয়ে যাওয়া যাবে। যেখানে বন্যপ্রাণী প্রতিনিয়ত সবুজ দুনিয়ায় খেলা করে, ভোরে পাখির কিচিরমিচির শব্দে প্রাণ জুড়িয়ে যাবে।

যেখানে গেলে সাগর, নদী আর সবুজ বনানীর মাঝে নিজেকে বিলিয়ে দিতে একটুও আফসোস হবে না। সেই নীল আকাশ, নদী আর আরণ্যের মহামিলন দেখতেই সুন্দরবনে যাওয়া।

মংলা বন্দরে কর্মরত বন্ধুকে ফোন করতেই বললো, থাকা খাওয়ার সব ব্যবস্থা সে নিজেই করে দেবে। ঝলমলে শহরের গৎবাধা যান্ত্রিক নিয়মের গণ্ডি ছেড়ে, ছোট একটা ট্রলি ব্যাগ নিয়ে এক রাতে চড়ে বসলাম বাসে। সঙ্গে কয়েকজন বন্ধু। মংলায় আমাদের ঘাঁটি হল হোটেল রয়েল।

সেখান থেকে যাওয়া হবে সুন্দরবন। বন্ধুর সঙ্গে পরামর্শ করার আগে একটা ভ্রমণ পরিকল্পনা করা হয়েছিল। সেই মতে পরদিন ভোরে নির্দিষ্ট ভ্রমণতরীতে গিয়ে উঠলাম।
আমরা ছাড়া আরও অনেকেই ছিলেন এই যাত্রায়। একে একে সকলে এসে পৌঁছানোর পর গাইড বলে দিলেন কি কি সর্তকতা অবলম্বন করতে হবে।

আমাদের প্রথম স্টপ বাসে করে তারপর লঞ্চ এবং পরে পায়ে হেঁটে সুন্দরবনকে উপভোগ করা। নদীর দু-ধার ধরে জেলেরা গ্রাম বিভিন্ন বয়সের নারী পুরুষ নদীতে বাগদা গলদা, পোনা ধরছে। কঠিন জীবন ব্যবস্থা। এক এক করে আমতলী, বানীশান্তা,

ডাইমারি পেরিয়ে পৌঁছালাম সুন্দরবনের দোরগোড়ায়। ঢাংমারী ফরেস্ট স্টেশন থেকে বনে প্রবেশের অনুমতি নিয়ে নিরাপত্তা কর্মীর সঙ্গে চললাম শরণখোলা নীল কমল এর উদ্দেশ্যে।

শান্ত নীরব চারপাশ, শুধু লঞ্চের ইঞ্জিন এর আওয়াজ। যেদিকে চোখ যায় সেদিকেই শুধু সবুজের হাতছানি। লঞ্চের পিছু পিছু ছুটে আসা যাকে যাকে নাম না জানা পাখির উড়াউড়ি আর পশুর নদীর রূপ দেখে যেন মন হারিয়ে যায়।

9 COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here